আটঘরিয়া উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সমূহের মধ্যে পাবনা জেলার সন্নিকটে আটঘরিয়া উপজেলা অবস্থিত, এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে চন্দ্রাবতী, রত্নাই ও চিকনাই নদী এছাড়াও রয়েছে বিল চতরা,গারুলিয়া,গম্বিল এবং গাব বিল । এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মত হলেও তবু কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়।
আটঘরিয়ার খ্যাতি ছড়াতে অবদান রেখে চলেছে এখানকার কৃতি সন্তানেরা। তাঁদের কর্মের গুণে সমৃদ্ধি ও খ্যাতিলাভ করেছে অনেকগুলো গ্রাম। আটঘরিয়া প্রসিদ্ধ স্থানগুলো হল - চাঁদভা, বেরুয়ান, আটঘরিয়া, দেবোত্তর, গোড়রী, উত্তর চক, মাজপাড়া, বংশীপাড়া, পারখিদিরপুর, একদন্ত, লক্ষ্মীপুর, যাত্রাপুর, ডেঙারগ্রাম, জোমাইখিরি, শিবপুর, লক্ষ্মীপুর, বাওইখোলা, শ্রীপুর প্রভৃতি। আটঘরিয়াকে প্রসিদ্ধি দান করেছে এখানকার বাঁশশিল্প, লোহা শিল্প, বাচামাড়া শাড়ি, পারখিদিরপুর বাজারের সমবায় মার্কেটসহ বিভিন্ন হাট-বাজার, তৈলশিল্প, গামছা, তাঁতশিল্প, গুচ্ছগ্রাম, আদর্শ গ্রামসহ নানা কিছু। আটঘরিয়া উপজেলা এতটাই সমৃদ্ধ, ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবদীপ্ত যে স্বল্প পরিসরে তার পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব নয়। এখানে আটঘরিয়ার ইতিহাসের একটা সংক্ষিপ্ত সার বিবৃত করা হলো মাত্র। (পরবর্তী পর্যায়ে সময়-সুযোগ বুঝে আটঘরিয়ার ওপর পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার ইচ্ছা রইল।) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহ, রাজনৈতিক ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাহিত্য-সংস্কৃতি সব দিকে থেকেই আটঘরিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। গৌরবময় অতীতের সাথে সমৃদ্ধ বর্তমান মিলে আটঘরিয়া সত্যিই লাভ করেছে এক তিলোত্তমা উপজেলার মর্যাদা। এখানে বাস করে, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীসহ অগণিত পেশার মানুষ। বাগদি ও বুনো আদিবাসীর কিছু লোক বাস করে এ উপজেলায়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে উঠেছে এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল। আমার দৃষ্টিতে কৃষকরাই আটঘরিয়ার উন্নতির মূল কর্ণধার। সরেজমিনে ঘুরে আটঘরিয়ার ফসলের মাঠ দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। শিম, বেগুন, পাতা কপি, ফুল কপি, বিচিত্র সব্জি, কার্পাসের মাঠ ; কলা, আম, জাম, তাল, সুপারি, নারিকেল প্রভৃতির ঐশ্বর্যে আটঘরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতির নিত্য সহোচর।
Planning and Implementation: Cabinet Division, A2I, BCC, DoICT and BASIS